রক্তদান: ইসলামে এক মহৎ ইবাদত

সম্প্রতি দেশে আগুনে পোড়ার ঘটনা ও এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় রক্ত ও প্লাটিলেটের চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা কিংবা প্রসূতি মায়ের জন্য রক্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন সময়েও অনেকে নানা ভ্রান্ত ধারণার কারণে রক্ত দিতে চান না। তবে ইসলামের বিধানে রক্তদানকে শর্তসাপেক্ষে সম্পূর্ণ বৈধ করেছে।

মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির আশায় কারো জীবন বাঁচানোর জন্য কোন বিনিময় ছাড়া রক্ত দেওয়া জায়েজ আছে। তবে তার শরীরের কোন ক্ষতি না হয় রক্তদাতা রক্ত দেওয়ার জন্য উপযোগী থাকে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন তামাম মানুষকে বাঁচালো”। (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৩২)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদের উত্তম প্রতিদান দেব”। (সুরা নাহাল, আয়াত : ৯৭)

মহানবী (সা.) বলেন, “মানুষ যতক্ষণ অন্য মানুষের সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন”। (সহিহ্ মুসলিম: ৬৭৪৬)।

মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, “যে অন্যের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন”। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৯৩)

হাদিস শরীফে এরশাদ করা হয়েছে,”কুকুরকে পানি পান করিয়ে এক ব্যভিচারী নারী ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে”।(বুখারি, হাদিস:৩৩২১)

আর মানুষ তো আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব ,তার জীবন বাঁচানো কতটা ফজিলতের কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রক্তদান একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নিরাপদ ও উপকারী প্রক্রিয়া, যা দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একজন সুস্থ ব্যক্তি সাধারণত প্রতি ৩ মাস বা ৪ মাস পর রক্ত দিতে পারেন। এছাড়া রক্তদানে রক্তদাতার কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়,ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস,রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ,নতুন রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তি ইত্যাদি।

অতএব মুমিনের উচিত, একান্ত আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করা। বিশেষ করে আগুনে পোড়া,দুর্ঘটনা ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের কারণে বহু মানুষ রক্তের জন্য ছোটাছুটি করছে! সকলেরই উচিত, তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

মোঃ হেলাল রহমান

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

Share With