উলিপুরে ১১২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষাকার্যক্রম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১২টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি ১২৭টি সহকারী শিক্ষক ও ৬টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাকার্যক্রম প্রায় ভেঙে পড়েছে।

উপজেলার বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বজরা, গুনাইগাছ ও থেতরাই ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি চরে অবস্থিত ৩৬টি বিদ্যালয়ে সংকট সবচেয়ে প্রকট। এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোতে মাত্র একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন, কোথাও বা শিক্ষকই নেই।

সীমান্তবর্তী সাহেবের আলগার মশালের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রতি একমাত্র শিক্ষক বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় সম্পূর্ণ শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সুখের বাতীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়িতে সীমিত আকারে ক্লাস চলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন উপস্থিত থাকতে পারেন, বাকি সময় প্যারা শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হয়।

উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

চরাঞ্চলের অভিভাবকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে সঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েও টিকে থাকতে পারছে না। এতে পুরো অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

Share With