আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে না—নাগেশ্বরীর শহীদ রব্বানীর বাবার কান্না

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সারাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান কুড়িগ্রামের ৯ জন তরুণ। আহত হন আরও দেড় শতাধিক। শহীদদের পরিবার ও আহত আন্দোলনকারীরা এখনো শোকে নিস্তব্ধ—তাদের প্রাণের দাবির নাম “বিচার”।

নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের পশ্চিম খামার এলাকার শহীদ গোলাম রব্বানীর পরিবার সেই শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন প্রতিদিন। নবম শ্রেণির ছাত্র রব্বানী লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের অভাব মেটাতে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় আফতাবনগরে খাবার আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মারা যান তিনি। গ্রামের বাড়িতে কবরস্থ করার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

রব্বানীর মা আমেনা বেগম বলেন, “ছেলের ছবি দেখলেই আমি মূর্ছা যাই। বিচার না হলে তার আত্মা শান্তি পাবে না।” তার বাবা সাইদুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে সংসারের ভরসা ছিল। সরকার কিছু সাহায্য দিলেও হত্যাকারীদের বিচার আজও পাইনি।”

রব্বানীর নানী বলেন, “আমার নাতি ঢাকায় কাজ করতে গিয়েছিল, সেখানেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমরা কিছু চাই না, শুধু চাই তার খুনিদের বিচার হোক।”

আহত আন্দোলনকারীদের একজন জানান, “আমার শরীরে এখনো প্রায় ৬০টি স্প্রিন্টার রয়েছে। অপারেশন করেও সফল হইনি। এখন কাজ করতে পারি না।”

জুলাই আন্দোলনের সংগঠক ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “এই আন্দোলনে কুড়িগ্রামে ৯ জন নিহত ও প্রায় ১৫০ জন আহত হন। আমরা চাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে শহীদদের মর্যাদা নিশ্চিত হোক।”

আরেক নেতা হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, “জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত ১০৫ জনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। যদি শহীদদের সম্মান না দিই, তাহলে গণতন্ত্র স্থায়ী রূপ পাবে না।”

জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা জানান, “সরকার শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখবো।”

কুড়িগ্রামের শহীদ পরিবারগুলোর একটিই চাওয়া—ন্যায়বিচার। আর সেখান থেকেই প্রতিধ্বনিত হয় তাদের আক্ষেপভরা আহ্বান: “আমরা বিচার চাই।”

Share With