ইজারাদার সিন্ডিকেটে জিম্মি কুড়িগ্রামের হাটবাজার

কুড়িগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী হাটবাজারগুলোতে এখন ইজারাদারদের খাজনা বাণিজ্যের চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার ছোট-বড় বিভিন্ন হাটে সরকারি নির্ধারিত টোল উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ বিক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আযহা সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে এই অনিয়ম আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, জোড়গাছ হাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে মো. আমজাদ হোসেন চিলমারী প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ঈদুল আযহা মৌসুমে চরাঞ্চলসহ আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ জোড়গাছ হাটে আসে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পশু বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি পশুতে নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও প্রতি মণে ১০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, এক পক্ষ থেকে টোল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকেই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু জোড়গাছ হাটেই নয়, যাত্রাপুর হাটসহ কুড়িগ্রাম জেলার ছোট-বড় প্রায় সব হাটবাজারেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। উচ্চমূল্যে হাট ইজারা দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা অতিরিক্ত টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ বিক্রেতারা খাজনা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

তাদের দাবি, একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে হাটবাজারকে জিম্মি করে রেখেছে। দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে জেলার কৃষি অর্থনীতি ও ঐতিহ্যবাহী হাট ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— হাট এলাকায় নির্ধারিত টোল চার্ট টানানো, মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা প্রেসক্লাব বরাবর পাঠানো হয়েছে। এখন প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

Share With