কুড়িগ্রামে নদীভাঙনে গৃহহীন শতাধিক পরিবার

নদ-নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তার ভাঙনে গত তিন দিনে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ার ৫০টি পরিবার দুধকুমারের ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে। তারা সড়ক, বাঁধ ও ভাড়া নেওয়া জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।

ভাঙনের শিকার হয়েছেন এই গ্রামের মনছেনা বেগম, হাফিজুর রহমান ও এরশাদুল হক। মনছেনা বেগম বাবার বাসায় আশ্রয় পেলেও এরশাদুল হকের কোথাও ঠাঁই হয়নি। তিনি অন্যের ধানক্ষেতের পাশে ঘরের আসবাব রেখে যাত্রাপুর বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। হাফিজুর রহমান উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চর পার্বতীপুরে চলে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে দুই শতাধিক পরিবার। ভাঙন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার ভাটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালুভর্তি জিও ব্যাগ থাকলেও জরুরি অবস্থায় সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আমার চোখের সামনে ১৭টি পরিবার ভিটাহারা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় এই জিও ব্যাগ আলাদা প্যাকেজের।

এখানে কোনো বরাদ্দ ধরা হয়নি। দ্রুত এই এলাকার জন্য ব্যবস্থা না নিলে যাত্রাপুর হাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।

তিস্তার প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে রাজারাট উপজেলার চর গতিয়াশামে ২০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে ফসলসহ জমি। ভাঙন দেখা দিয়েছে উলিপুরের চর থেতরাই ও রাজারহাটের হাঁসারপাড় এলাকায়।

এতে ওই এলাকার কয়েক শ পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
ধরলা নদীর ভাঙনে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে ওই ইউনিয়নের একমাত্র খুদিরকুটি আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়। ভাঙন দেখা দিয়েছে রৌমারীর ঘুঘুমারি, চিলমারীর শাখাহাতিসহ কয়েকটি এলাকায়। এসব এলাকায় গত তিন দিনে ৩০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, কয়েকটি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বলেন, উজানের ঢলে হঠাৎ নদ-নদীর পানি বেড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন মোকাবেলায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষের জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Share With