কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে চলাচলকারী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে কুড়িগ্রাম জেলা মটর মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা করে।
এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। নোটিশে দেখা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সমিতি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রী ভাড়া “সহনশীলতার পর্যায়ে বিবেচনা করে” পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নতুন ভাড়ার কারণে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা ও গাজীপুরগামী ফাইভ স্টার, খাঁন পরিবহন, রংতুলি পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসে যাত্রীদের প্রতি টিকিটে ১০০ টাকার বেশি অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।
ষাটোর্ধ্ব যাত্রী আলেয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত সপ্তাহে গাজীপুর থেকে কুড়িগ্রাম গিয়েছিলাম ৭০০ টাকায়, আজ আসলাম ৮০০ টাকায়।”
আব্দুস সালাম নামে এক ছাত্র বলেন, “আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, অথচ আজ নিজেরাই বৈষম্যের শিকার। সরকার ও প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।”
আরেক যাত্রী হারুন-অর-রশিদ বলেন, “আগে ৫০০-৬০০ টাকায় ঢাকা যাওয়া যেত, এখন তা অসম্ভব। এটি আমাদের উপর অন্যায়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অনেক পরিবহন কুড়িগ্রাম রুট বন্ধ করে দেবে, যা জেলার জন্য বড় ক্ষতি।”
উল্লেখ্য, মালিক সমিতির নোটিশে বাড়তি ভাড়া না মানলে কঠোর শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত ভাড়ার কম নিলে প্রথমবার প্রতি যাত্রী ১ হাজার, দ্বিতীয়বার ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ তৃতীয়বার প্রমাণ হলে সাময়িক বিরতি (স্থগিতাদেশ) দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর বকশী বলেন, “এটি সরকারের কোনো নিয়ম নয়, এটি আমাদের সংগঠনের নিয়ম। আমাদের এলাকায় ঢুকলে আমাদের আইনই মানতে হবে।”
তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। অনেকেই মনে করেন, কুড়িগ্রামের মতো প্রান্তিক জেলায় এভাবে একতরফা ভাড়া বৃদ্ধি যাত্রীদের জন্য ‘অযৌক্তিক চাপ’ তৈরি করছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।