কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে দীর্ঘ ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে জাতীয় পার্টির আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গলের দুর্গে হানা দিয়ে প্রথমবারের মতো জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম সালেহী।
এই নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপির লড়াইয়ে জাতীয় পার্টিসহ চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের ডা. আক্কাছ আলী সরকার (৩৩ হাজার ৪০৯ ভোট), জাতীয় পার্টির আবদুস সোবাহান (২ হাজার ৭৮ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের নুরে এরশাদ সিদ্দিকী (৫৯৬ ভোট) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাফিউর রহমান (২৩৫ ভোট) তাদের জামানত হারিয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে এসব প্রার্থী কোনো ভোটই পাননি, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর থেকে উলিপুর জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পায়। মাঝে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে নিলেও বিএনপি বা জামায়াত কখনোই এখানে জয়ের মুখ দেখেনি। তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। লাঙ্গলের দুর্গ ভেঙে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি।
স্থানীয় ভোট বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের ভোটাররা বরাবরই সরকারবিরোধী বা স্রোতের বিপরীতে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ‘সবাইকে দেখেছি, এবার হামরা ইসলামের দল জামায়াতকে ভোট দিমো’– এই মনোভাবই নির্বাচনের ফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী ১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৮২ ভোট।
আসনটির এই রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রভাষক মো. আবু হেনা মুস্তফা মনে করেন, মানুষ পরিবর্তনশীল এবং এই নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে নদীভাঙন কবলিত উলিপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সংকট কাটবে।
তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হায়দার আলী আক্ষেপ করে বলেন, তারা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে, তাই স্রোতের বিপরীতে না যাওয়াই ভালো ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অ্যাডভোকেট কামাল করিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাজ গঠন এবং সরকারি সব বরাদ্দ সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।