নাম নিয়ে অনিশ্চয়তায় উদ্বোধনের আগেই হরিপুর-চিলমারী তিস্তা সেতু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলার সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুর নামকরণ ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ১০ আগস্ট এ নামকরণের বিষয়টি জানা যায়। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী জানান, এ সংক্রান্ত কোনো সরকারি চিঠি তাঁর দপ্তরে পৌঁছায়নি। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চিঠি দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সেতু উদ্বোধনের তারিখ ২৫ আগস্ট থেকে এগিয়ে ২০ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তবে উদ্বোধনের তারিখ বারবার পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “এভাবে উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন ভালো লক্ষণ নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০ আগস্ট সেতুটি উদ্বোধন হবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।”

সেতুর নামকরণ প্রসঙ্গে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসএএস-এর নির্বাহী পরিচালক এ বি এম নূরুল আক্তার মজনু জানান, দীর্ঘ ১১ বছরের নির্মাণকাজ শেষে সেতুটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে দুই জেলার মানুষ। তবে ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ নাম হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে এলাকাবাসী ‘শরিয়তুল্লাহ মাস্টার সেতু’ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে।

চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন এই সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা সৌদি ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূলত ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, সংযোগ সড়কসহ নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে।

তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতা ও প্রবীণ শিক্ষক আ.ব.ম শরিয়তুল্লাহ মাস্টার জানান, ২০০০ সাল থেকে এ সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। ২০১২ সালে এসে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গতি পায় এবং ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দ্বিতীয়বার ২০২০ সালের ৬ জুলাই একনেক এই প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেয়।

এই সংযোগ সেতু চালু হলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share With