নাগেশ্বরীতে ডিজিটাল বাতায়ন মুখ থুবড়ে: ওয়েবসাইটে তথ্যহীনতার ছড়াছড়ি

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নাগরিক সেবাকে সহজলভ্য করতে চালু হয়েছিল জাতীয় তথ্য বাতায়ন। তবে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এ উদ্যোগ এখন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ দপ্তরের ওয়েবসাইট ফাঁকা বা পুরোনো তথ্যের ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে, ফলে নাগরিকরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি সাংবাদিকরাও তথ্য সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা গেছে, ‘প্রকল্পসমূহ’ ক্যাটাগরিতে কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআর, এলজিএসপি বা এলজিডি প্রকল্পের কোনো তথ্য নেই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারের অনেক মোবাইল নম্বরই ভুল কিংবা বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক বাবুল জামান জানান, “ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য নেই। যা আছে, সব পুরোনো। এর ফলে সংবাদ সংগ্রহে আমাদের কষ্ট বেড়েছে।”

শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইটেও একই চিত্র। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, থানা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, অনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ডাকঘর, পাট উন্নয়ন, সাব-রেজিস্ট্রার, মহিলা বিষয়ক দপ্তর, ক্ষুদ্র সেচ, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য নেই। এমনকি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসেও ছয় মাস আগে প্রধান বদল হলেও এখনও আগের কর্মকর্তার নাম প্রদর্শিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিব্বির আহমেদ বলেন, “প্রতিটি দপ্তর নিজ নিজ ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। যদি না করে, তবে পরবর্তী মিটিংয়ে বিষয়টি জানানো হবে।”

উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা এটিএম মাসুদ বলেন, “আমরা সহযোগিতা করি, কিন্তু হালনাগাদ করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব। মিটিংয়ে বলা হলেও অনেকে তা মানে না। আমি একা এর সমাধান করতে পারব না।”

ডিজিটাল বাতায়নের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা। অথচ নাগেশ্বরীতে তা এখন তথ্যহীনতার বিড়ম্বনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share With