রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন, আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামেও গভীর শোক ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন দপ্তর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
চিলমারীর হলি চাইল্ড এভার কেয়ার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সকালের শুরুতেই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং পরে দোয়া করেন। সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বিশেষ করে শিক্ষিকা মাহারিন যেভাবে নিজের জীবন দিয়ে অন্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তা আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধায় নত করে।”
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মো. আল-আমিন হক জানান, “এই দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের সুস্থতার জন্য দোয়া করেছি। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ সক্রিয়ভাবে এই শোক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।”
উত্তরার মর্মন্তুদ দুর্ঘটনা যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাই এদিন একসাথে কাঁদলেন, প্রার্থনা করলেন—ভবিষ্যতে যেন এমন ট্র্যাজেডি আর না ঘটে।