রৌমারীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে অর্ধলক্ষ মানুষ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তিন ইউনিয়নের অন্তত ৩০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। সেতু না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিকল্প হিসেবে স্থানীয়দের তৈরি ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাকোই একমাত্র ভরসা হলেও, সেটি এখন জীবন ঝুঁকির স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা, চর শৌলমারী এবং উলিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সাহেবের আলগা ইউনিয়নের অন্তর্গত শান্তিরচর, খড়ানির চর, কাজাইকাটা, গাছবাড়ি, চর কাজাইকাটা, আনন্দবাজার, ফুলকার চর, সোনাপুর, গেন্দার আলগা, নামাজের চর, খেয়ারচর, ডিগ্রিরচর, বাংলা বাজার, চর ইটালুকান্দা, লাউবাড়ি, উত্তর নামাজের চর, জাহাজের আলগা, দই খাওয়ার চর, হবিগঞ্জসহ অনেক গ্রামে নেই নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় দারিদ্র্যপীড়িত এই জনপদের বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হলহলিয়া নদীর উপর স্থায়ী সেতুর অভাবে গত কয়েক দশক ধরে সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছেন তারা। জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময় এলেও, বাস্তব উন্নয়নে নেই কোনো অগ্রগতি। বেহাল সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ সাকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও রোগীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, কারণ সড়কপথে বাজারজাতকরণ ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার জানান, কাজাইকাটা এলাকায় ৩৬৩০ মিটার চেইনেজে একটি সেতুর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সেতু ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলে জেলার সঙ্গে রৌমারীর সরাসরি যোগাযোগ উন্নত হবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে, আর জনদুর্ভোগও কমে আসবে।

Share With