শহীদ রায়হানের বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শহীদ রায়হানের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তার বাড়িতে যান। এ সময় ছেলেকে স্মরণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদের বাবা।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার শহীদ রায়হানের বাড়িতে যান সংগঠনটির জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে শহীদ রায়হানের বাবা বলেন, “আমার একটাই ছেলে। কোনো মেয়ে নেই। দুনিয়া জুড়ে রায়হানই ছিল আমার সব। সে আমার সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশত।”

তিনি আরও বলেন, “বন্ধুরা ও কোম্পানির লোকজন তাকে বারবার আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু ছাত্রদের ওপর অত্যাচার আর গুলির শব্দ শুনে সে ঘরে বসে থাকতে পারেনি। আন্দোলনে গিয়ে দুই বছরের ছোট্ট সন্তানকে এতিম করে শহীদ হয়ে গেল আমার রায়হান।”

এ কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে সান্ত্বনা দেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন, “আমরা পর্যায়ক্রমে সব শহীদ পরিবারের কাছে যাচ্ছি। তাদের কথা শুনছি, কষ্ট ভাগ করে নিচ্ছি। যে বাসায় যাই, ততই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। দেশের জন্য শহীদদের এই ত্যাগ আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”

সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, “আমরা শহীদদের পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের ইতিহাস শুনছি এবং তাদের আত্মত্যাগকে অন্তরে ধারণ করার চেষ্টা করছি।”

এ সময় সংগঠনটির সাবেক নেতা আতাউর রহমান, মামুনুর রশিদ, হৃদয় বিন আজাদ, আব্দুর রাজ্জাক, বন্ধনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Share With