সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হয়েও পাননি কুড়িগ্রামের ইত্যাদির আমন্ত্রণ—তাহলে ভিআইপি কারা?

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’–এর শুটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রান্তিক জেলা কুড়িগ্রামে, যা জেলার মানুষের মধ্যে একসময় আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি করেছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন কিছু ঘটনায় সেই আনন্দে দেখা দিয়েছে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি।

জানা যায়, ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই শুটিংয়ে দর্শকদের ‘ভিআইপি’ ও ‘সাধারণ’—এ দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এতে অনেক সাধারণ দর্শক প্রবেশাধিকার না পেয়ে ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করেন। কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ মনে করেন, এটি জেলার মানুষের প্রতি অবমাননা এবং একটি প্রান্তিক জেলার গর্বের অনুষ্ঠানে অযাচিত বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী শফিকুর রহমান সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,

“আমি এই জেলার মানুষ হিসেবে গর্বিত, কিন্তু কোনো সৌজন্য আমন্ত্রণ পাইনি। প্রশ্ন হলো—এই ‘ভিআইপি’ কারা? তারা কি সত্যিই কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি, নাকি বিশেষ পরিচয়ের মালিক?”

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রাম ভাওইয়া গানের জন্য জাতীয়ভাবে পরিচিত একটি সাংস্কৃতিক জেলা। অথচ এই আয়োজনের মূল মঞ্চে স্থান পাননি জেলার নিজস্ব শিল্পীরা। তাদের পরিবর্তে অন্য জেলার শিল্পীদের দিয়ে অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পীদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে।

অধ্যক্ষের মতে,

“এই জেলার বহু ভাওইয়া শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত, তাদের কণ্ঠে আছে মাটির গন্ধ ও নদীর সুর। তাদের উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের নাম ব্যবহার করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা মানে জেলার আত্মাকে উপেক্ষা করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছেন ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তারা হয়তো কাজ শেষ করে ফিরে গেছেন, কিন্তু কুড়িগ্রামের মানুষের মনে এই বঞ্চনার অনুভূতি রয়ে যাবে দীর্ঘদিন।

শেষে তিনি বলেন,

“কুড়িগ্রাম কোনো ভিআইপি শহর নয়; বরং কুড়িগ্রাম নিজেই একটি গৌরব। এই জেলার মানুষই এর আসল পরিচয়, আর তাদের সংস্কৃতিই কুড়িগ্রামের আত্মা। তাদের বাদ দিয়ে কুড়িগ্রামের গল্প কখনোই সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

Share With