কুড়িগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা: সমস্যা ও সমাধানের দিকে

Impact of COVID-19 on Local Education

স্কুল বন্ধ হওয়া এবং শিক্ষার ক্ষতি

কুড়িগ্রামে করোনাভাইরাসের আঘাত শিক্ষাক্ষেত্রে ভয়াবহ ছাপ ফেলেছে। দীর্ঘ ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগত ভিত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ঘরে বসে থাকা এই শিশুদের মধ্যে অনেকেই বই-খাতা ছুঁয়েও দেখেনি সেই সময়ে।

গ্রামীণ এলাকায় তো বটেই, শহর এলাকাতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬০% পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু আত্মস্থ করতে পারেনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও খারাপ – তাদের মৌলিক পঠন-পাঠন দক্ষতা হারিয়ে ফেলা এবং গণিতের সহজ সমস্যা সমাধানে অক্ষমতা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল বিভাজন এবং দূরশিক্ষণের চ্যালেঞ্জ

কুড়িগ্রাম জেলার মতো দরিদ্র এলাকায় অনলাইন শিক্ষা একটি কঠিন স্বপ্ন ছিল। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭% পরিবারের কাছে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ছিল, আর ইন্টারনেট সংযোগ ছিল ৮% এরও কম পরিবারে।

সরকারের সংসদ টিভি এবং রেডিও মাধ্যমে পাঠদান সত্ত্বেও, দূরবর্তী উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সমস্যা এবং যন্ত্রপাতির অভাবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক শিক্ষক নিজেরাও ছিলেন ডিজিটাল দক্ষতায় পিছিয়ে, যা সমস্যাকে আরও জটিল করেছে।

একজন স্থানীয় শিক্ষক জানান, “আমি প্রথমবার জুম ব্যবহার করতে গিয়ে ঘণ্টাখানেক সময় নষ্ট করেছি, আর আমার ছাত্ররা তো কীভাবে যোগ দিবে সেটাই জানত না।”

Kurigram Class

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

লকডাউন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কুড়িগ্রামের একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, ১৪-১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ৪২% মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখিয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থী সারাদিন মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে, যা তাদের মনোযোগ এবং পড়াশোনায় আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের আর্থিক সঙ্কটও শিশুদের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় এক মনোবিজ্ঞানী বলেন, “এই বাচ্চাদের কাছে স্কুল শুধু শিক্ষার জায়গা নয়, সামাজিক বিকাশের জায়গাও। এটা হারিয়ে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

Share With

One thought on “কুড়িগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা: সমস্যা ও সমাধানের দিকে”

Comments are closed.