আবিদা সুলতানা রুকু, রংপুর প্রতিনিধি।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজিত জনতার হামলায় সনাতন ধর্মাবলম্বী কমপক্ষে ১৪টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাজুড়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে গঙ্গাচড়ার আলদাদপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে চলে যাচ্ছে। সোমবার সকালেও দেখা গেছে, আক্রান্ত পরিবারগুলো তাদের মালপত্র, গবাদি পশু ও আসবাবপত্র ভ্যানে তুলে সরিয়ে নিচ্ছেন।
পুলিশ জানায়, ফেসবুকে মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শনিবার রাতে এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে আদালতের নির্দেশে তাকে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি আল এমরান বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তবে কিশোরকে আটক করার পরপরই উত্তেজিত জনতা তার বিচার দাবিতে মিছিল নিয়ে তার বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরদিন রোববার বিকালেও নতুন করে কয়েকটি বাড়িতে হামলা হয়, যাতে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী অভিযোগ করেন, “আমার এক ভরি সোনার চেইন, জমির কাগজ সব লুট হয়ে গেছে।” স্থানীয় বাসিন্দা কমলাকান্ত রায় বলেন, “সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আজ সকাল থেকে ধান সরাচ্ছি, যা ছিল সব বিক্রি করে দিচ্ছি।”
আলদাদপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় স্কুলে উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, “আজও মিছিল আসার হুমকি এসেছে। অনেকে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। তাদের সহায়তা দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যু ঘিরে এমন সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।