বাকশালী অন্ধকার ভেঙে বিএনপির নতুন বাংলাদেশ

বাকশালী অন্ধকার ভেঙে বিএনপির নতুন বাংলাদেশ।

২০০৬ পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, গণতন্ত্রহীনতা, ভোটাধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের দলীয়করণের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির নির্বাচন। জনগণ তাদের রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে—এই দেশের মানুষ আর ফ্যাসিবাদ, দমন-পীড়ন ও লুটপাটের রাজনীতি চায় না। সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), আর ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশনেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। জনগণের প্রত্যাশা ছিল—একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন ও জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশ গঠন। আর সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিএনপি সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়—জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করতে এসেছে। তাই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করাই ছিল এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। “ফ্যামিলি কার্ড” চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী চালুর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—যা অতীতের ইসলামবিদ্বেষী শাসনের সম্পূর্ণ বিপরীত।

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই বিশ্বাস থেকেই ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। “কৃষক কার্ড” চালুর মাধ্যমে কৃষিকে ডিজিটাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিএনপি আবারও প্রমাণ করেছে—তারা উন্নয়নের রাজনীতি করে, লুটপাটের নয়।

জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের নামে অতিরিক্ত চার্জ আদায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই অন্যায় চার্জ বাতিল করেছে। শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা, স্টার্টআপ ফান্ড, ফ্রিল্যান্সারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং জেলাভিত্তিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের পরিকল্পনা দেশের তরুণ সমাজের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ এবং দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান প্রমাণ করে—এই সরকার জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে চায়। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবাসীদের আস্থা ফিরে এসেছে। “প্রবাসী কার্ড” চালুর উদ্যোগ সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।

শিক্ষা খাতে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা চালুর ঘোষণা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই ও মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। একইসঙ্গে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন কর্মসংস্থানমুখী বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করছে।

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের উদ্যোগ, শতভাগ হাম টিকাদান নিশ্চিতকরণ এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ। অন্যদিকে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মামলায় দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়কে তুলে ধরেছে।

বিএনপি সরকার জাতীয় পরিচয় ও ইসলামী চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে পাসপোর্টে পুনরায় “Except Israel” সংযুক্ত করার মাধ্যমে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং মুসলিম উম্মাহর প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

অবকাঠামো উন্নয়নেও সরকার নতুন গতি এনেছে। 

টেকনাফ-তেঁতুলিয়া ইকোনমিক করিডোর, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই, বিশেষ ঈদ ট্রেন ও নৌ-সার্ভিস—সবকিছুতেই জনগণের স্বস্তি ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা ফুটে উঠছে। নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কম্পার্টমেন্ট চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ভাড়া ছাড় একটি মানবিক রাষ্ট্রের উদাহরণ।

সংসদীয় কার্যক্রমেও বিএনপি সরকার সক্রিয়তা দেখিয়েছে। দ্রুত ৯৪টি বিল পাস, সংসদীয় কমিটি গঠন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রমাণ করে—এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাকশালী একদলীয় শাসনে নয়।

“গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা”, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি এবং জরুরি সেবা সম্প্রসারণ আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা। পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড, ক্রীড়া ভাতা এবং ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা তরুণ সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখার ইতিবাচক উদ্যোগ।

মাত্র ১০০ দিনেই বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছে—সদিচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের যে অঙ্গীকার বিএনপি করেছিল, তার বাস্তব ভিত্তি ইতোমধ্যেই তৈরি হতে শুরু করেছে। এখন দেশের মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখছে—একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল ও জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশ।

মোঃ মাকসুদ মেহেদী বকসী

তরুণ লেখক ও কলামিস্ট।

Share With