জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিচার ও অর্থায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ভাঙনপ্রবণ এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘জাস্টিস ফর চর’স অ্যান্ড লোকাল রিসার্চ’ (JFCLR)।
মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ, তরুণ ও শিশু অংশ নেন। প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে তারা নদীভাঙন, অনিয়মিত বন্যা ও চরম আবহাওয়ার কারণে জীবনের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরন বেওয়া বলেন, “প্রতি বছর ঘর সরাতে সরাতে জায়গা ফুরিয়ে গেছে। এখন ঘর তোলারও জায়গা নেই।” আরেক শিক্ষার্থী রাজু অভিযোগ করেন, “পড়াশোনা করা যাচ্ছে না, আয়ের পথ নেই, স্বপ্নও শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
অংশগ্রহণকারীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে কৃষি, বাসস্থান, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সময়োপযোগী বরাদ্দ, পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তারা।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, “শুধু বাঁধ দিলেই হবে না, চাই বিজ্ঞানসম্মত অভিযোজন পরিকল্পনা। স্থানীয় তরুণদের সম্পৃক্ততা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
JFCLR-এর পরিচালক স্বপন কুমার সরকার বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। অথচ কুড়িগ্রামের মানুষ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করেও সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। জাতীয় বরাদ্দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ফান্ড এখন সময়ের দাবি।”
কর্মসূচিতে সংগঠনের সমন্বয়ক রাজু আহমেদ, শাকিল ইসলাম, মাসুদ রানা, শাহিন ইসলামসহ স্থানীয় নারীরা-রাবেয়া খাতুন, আয়েশা সিদ্দিকা, বিলকিস বেগম ও হালিমা খাতুন বক্তব্য রাখেন।
অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি এলেও তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয় না। আমাদের দরকার কার্যকর সহায়তা।”
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের এই মানববন্ধন শুধু একটি প্রতিবাদ নয়; এটি চরবাসীর টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। তারা লড়ছেন শুধু নদীভাঙনের বিরুদ্ধে নয়, বরং বৈশ্বিক অবিচারের বিরুদ্ধেও—যেখানে দায় তাদের নয়, অথচ ভোগান্তির ভার বহন করতে হচ্ছে তাদেরকেই।