উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা গ্রামে প্রায় ২৮ বছর পর নিখোঁজ শিশু সাইফুল ইসলাম তার পরিবারে ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের আশা ও প্রার্থনার পর সন্তানের পুনর্মিলনে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
সাইফুল দরিদ্র কৃষক দম্পতি আব্দুল লতিফ ও আমেনা বেগমের চতুর্থ সন্তান। নয় বছর বয়সে পরিবারের অভাবের কারণে তিনি প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে চট্টগ্রামে কাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু ট্রেন থামার সময় শৌচকর্মের জন্য ট্রেন থেকে নামার পর নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভাগ্যের খেলায় সাইফুল আশ্রয় পায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি রেলস্টেশনের এক চায়ের দোকানে। সেখানেই ২৮ বছর কাটে তার। সম্প্রতি নেফরা গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে নিজের বাবা-মায়ের নাম ও গ্রামের নাম বলতে পারায় ধীরে ধীরে তার পরিচয় মিলেছে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বড় ভাই মাহফুজার রহমান ভাটিয়ারি গিয়ে সাইফুলকে বাড়ি নিয়ে আসেন। শনিবার সকালে বাড়িতে ফেরার পর শতশত মানুষ ভিড় জমায়।
অশ্রুসিক্ত বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, “ছেলেকে পেয়ে আমি আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়েছি। বহু বছর দোয়া করেছি, আজ আল্লাহ তা কবুল করেছেন।”
মা আমেনা বেগম বলেন, “সংসারের অভাবে ছেলেকে কাজে পাঠিয়েছিলাম। পথে হারিয়ে যায়। খুঁজেছি বহু জায়গায়। আজ আল্লাহর রহমতে সন্তানকে ফেরত পেলাম।”
এলাকাবাসী জানায়, সন্তান হারানোর পর পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। দাদী আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে নাতির ফেরার প্রার্থনা করেছিলেন, কিন্তু তা আর দেখার সৌভাগ্য হয়নি।
চায়ের দোকানের মালিক মোস্তাকিন জানান, সাইফুল দীর্ঘদিন তার দোকানে কাজ করেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লিখিতভাবে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “পরিবারটি অসহায়। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা খুবই প্রয়োজন।”
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, “২৮ বছর পর সন্তানকে ফিরে পাওয়া সত্যিই আনন্দের বিষয়। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”