সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এ বছর উপজেলায় ১৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ২ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এবছর দেবী দোলায় আগমন করে গজে চড়ে কৈলাশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
পূজা উপলক্ষে ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। মৃৎশিল্পীদের রঙ ও তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো সেজে উঠছে নতুন রূপে। প্যান্ডেল তৈরি, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজও প্রায় সম্পন্ন। দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও সিংহসহ প্রায় ডজনখানেক প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পীরা।
স্বর্গীয় হীরালাল সাহা দুর্গা মন্দিরের কারিগর লক্ষণ সেন বলেন, “এবার তিনটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। প্রতিটি প্রতিমার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি কৃষিকাজও করতে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, কুড়িগ্রাম শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ কুমার সাহা বলেন, “মন্দিরগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ জানান, “অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মন্দিরে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া উৎসব চলাকালীন থাকবে বিশেষ নজরদারি।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপ জন মিত্র দৈনিক জনকণ্ঠকে জানান, “পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মণ্ডপে সরকারি সহায়তা হিসেবে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় মণ্ডপ কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় থাকতে হবে। সবাই অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করলে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করি।”
এখন শুধু ঢাকের তালে, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার অপেক্ষায় ভূরুঙ্গামারীর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।