কুড়িগ্রামে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন ও বিএনপি যৌথভাবে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। শনিবার রাজারহাটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন দলীয় ও প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে হঠাৎ যোগ দেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পূজা চলাকালে কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “এই দেশ সকলের। ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ বজায় রেখেই পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ট্রিপল লাইনে কল করে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে।”
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুস্তাফিজার রহমান (মোস্তফা) জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে। তিনি বলেন, “সনাতনী ভাই-বোনদের পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। বিএনপি সবসময় সনাতনীদের পাশে ছিল, আছে, থাকবে।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও অনুষ্ঠানটির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “কোনো প্রকার উসকানি বা দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি মন্দির কমিটির সঙ্গে আমাদের টিম সমন্বয়ে কাজ করবে। সমস্যা দেখা দিলে এক ফোনেই আমরা ছুটে আসব।”
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক শ্রী সুভাষ সরকার এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক পিযুষ কুমার রায়ও তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আলোচনা সভায় জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন রাজারহাট শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষক শ্রী প্রভাত চন্দ্র রায়। শুরুতে শ্রী অনিল রায় শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ করেন। সঞ্চালনা করেন রতন কুমার রায়, সদস্য সচিব, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট রাজারহাট উপজেলা।
সবশেষে বক্তারা বলেন, আসন্ন দুর্গোৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং কোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।