কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষক সংকট, আবাসন সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ মীর্জা মোঃ নাসির উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজটি ধীরে ধীরে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রশাসন, সুধীসমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা এই অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এরপর কলেজের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বাইরে যেতে না পারে। অধ্যক্ষ নিজেই মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে শৃঙ্খলা তদারকি করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় বাধ্যতামূলক এসেম্বলি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। ঝড়–বৃষ্টির দিনেও এই এসেম্বলি কলেজ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস চলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে এই কলেজের ১৩০ জন শিক্ষার্থী বুয়েট, মেডিকেল, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে।
গত দুই বছরে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সরকারি চাকরি পেয়েছেন।
এ ছাড়াও চলতি বছরে ইংরেজি বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থী সারা দেশের নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম আরও বাড়িয়েছে।
কয়েক বছর আগেও যেখানে উচ্চমাধ্যমিকে মাত্র তিনজন ছাত্রী পড়াশোনা করত, সেখানে এখন ৩শ’র বেশি ছাত্রী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে আশপাশের মেয়েরা এখন মহিলা কলেজের পরিবর্তে এই কলেজে ভর্তি হচ্ছে।
বর্তমানে কলেজে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, অথচ শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫২ জন, যেখানে প্রয়োজন ১০৮ জন শিক্ষক।
এছাড়া কলেজে পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন, ছাত্র–ছাত্রী নিবাস ও পরিবহনেরও ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ৮টি বাস দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর চলাচল পরিচালনা করা হয়।
উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন,
“আমাদের কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা অসাধারণ। এবার আমাদের কলেজ থেকে ১৩০ জন বুয়েট, মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আমরা এখান থেকেই আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।”
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ইয়াসমীন আরা বলেন,
“আগে মেয়েরা পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল না, এখন শিক্ষার মান উন্নত হওয়ায় মেয়েরা মহিলা কলেজে না গিয়ে এখানেই ভর্তি হচ্ছে।”
ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ আরিফিন সিদ্দীকি জানান,
“শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ১৪শ শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়, তারপরও আমাদের বিভাগ জাতীয় পর্যায়ে প্রথম তিন স্থান অর্জন করেছে।”
অধ্যক্ষ মীর্জা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন,
“বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষক ও সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণেই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এজন্য উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্সের ফলাফল এ অঞ্চলের মধ্যে অত্যন্ত সন্তোষজনক।”