নদনদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় ভাঙন, বন্যা, খরা, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন জেলার বাসিন্দারা। এসব দুর্যোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় গাছ লাগানো– এই চিন্তা থেকে ৯ বছর আগে যাত্রা শুরু করে ‘অরণ্য’। সবুজায়নের লক্ষ্যে ‘একটি করে গাছ লাগাই, জীবন ও পরিবেশ বাঁচাই’ স্লোগানে এগিয়ে যাচ্ছে এই সমাজসেবামূলক সংগঠন। ‘অরণ্য’র উদ্যোগে এ পর্যন্ত জেলায় ২২ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে অনেক চারা। সংগঠনটির সদস্যদের স্বপ্ন, একদিন পুরো জেলা সবুজে ভরে যাবে।
অরণ্যর সভাপতি উলিপুর উপজেলার আব্দুস সোবহান জুয়েল জানান, পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করা অরণ্যের মূল লক্ষ্য। ২০১৬ সালে শুরুর দিকে ধীরগতিতে কাজ করলেও ২০২২ সাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করেন তারা। গত তিন বছরে বজ্রপাত রক্ষাকারী তালগাছ, পরিবেশবান্ধব নিমগাছ, খেজুর, বকুল, কৃষ্ণচূড়া ও বাবলা গাছের ২২ হাজার চারা রোপণ করেছে অরণ্য। ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১০ কিলোমিটার বাঁধের রাস্তা, ৬টি সড়কের ১০ কিলোমিটার, ২৫০টি নবজাতকের বাড়িতে ৫০০, ৮টি মসজিদ, ৬টি ঈদগাহ মাঠ ও টি-বাঁধে এসব গাছ রোপণ করা হয়েছে। জুয়েল বলেন, সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানো হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে শিশুদের সঙ্গে সেগুলো বেড়ে ওঠে।
অরণ্যর উপদেষ্টা নুর আমিন বলেন, অন্যান্য সামাজিক কাজের চেয়ে বৃক্ষরোপণ করা অনেক মহৎ কাজ। এই কাজের সুফল সব মানুষ ভোগ করতে পারে। গাছ ছায়া দেয়, অক্সিজেন দেয়, জ্বালানি দেয়। সর্বোপরি জীবনকে নিরাপদ রাখতে গাছের বিকল্প নেই। বর্তমানে জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। তাই পরিবেশ রক্ষায় এ কাজকে আমরা বেছে নিয়েছি। যতদিন বাঁচব, গাছ লাগিয়ে যাব। আমাদের স্বপ্ন– এক দিন দেখব পুরো কুড়িগ্রাম সবুজ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, অরণ্যর লাগানো গাছগুলো বড় হলে এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে, বাঁধগুলো টেকসই হবে। নন্দুনেফরা গ্রামের নাজমা আকতার বলেন, নাগড়াকুড়া টি-বাঁধে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো তিস্তা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করবে। যে কাজটি আমরা এলাকার মানুষ করতে পারিনি, অরণ্য তা করিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিল। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব গাছগুলো রক্ষা করা।
উলিপুর টি-বাঁধে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ফুল মিয়া বলেন, এখানে মানুষ ঘুরতে আসে চিত্তবিনোদনের জন্য। কিন্তু গাছ না থাকায় রোদে খুব কষ্ট হয়। বর্তমানে এখানে অনেক চারা রোপণ করেছে ‘অরণ্য’। এগুলো বড় হলে জায়গাটি ছায়াসুনিবিড় হয়ে উঠবে।
উলিপুরের হযরত ফাতিমা (রা.) স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। ‘অরণ্য’ আমাদের প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগিয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝেও চারা বিতরণ করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, সংগঠনটি খুব ভালো কাজ করছে। তাদের দেখাদেখি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, ‘অরণ্য’ অবশ্যই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।