কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আকাশের জীবন এখন ঘন অন্ধকারে ঢাকা। প্রাণচঞ্চল এই তরুণের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে তার জীবন। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অসহ্য যন্ত্রণা ও হতাশায়। জেলার পৌরসভা এলাকার সর্দারপাড়া গ্রামের দিনমজুর হোসেন আলীর ছেলে মো. আকাশ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের হাসিখুশি ছেলেটির চেহারায় এখন ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। চোখে-মুখে হতাশার ছায়া।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নিতে গেলে তার দুটি কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানকার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এরপর থেকে একই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রায় ১৮০টি ডায়ালাইসিসে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের ৮ শতক জমির মধ্যে ৪ শতক বিক্রি করতে হয়েছে। আকাশের বাবা হোসেন আলী হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
বর্তমানে ঢাকার সিকেডি এন্ড ইউরোলজি হাসপাতাল-এর চিকিৎসক ডা. বাহারুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে আকাশের চিকিৎসা চলছে। আশার খবর হলো, তার বোনের কিডনির সঙ্গে ম্যাচ করেছে। তবে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। অর্থের অভাবে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া থমকে আছে।
আকাশের প্রতিবেশী আলহাজ আব্দুল কাদের বলেন, জমিজমা বিক্রি করেও ছেলের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারছে না পরিবারটি। বড় ছেলে টেইলারের কাজ করে, তার পক্ষে সংসার ও ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আকাশের বাবা হোসেন আলী বলেন, “আমি রাজমিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করতাম। এখন হার্টের সমস্যার কারণে কাজ করতে পারি না। ছেলের চিকিৎসার জন্য বসতভিটার কিছু অংশ বিক্রি করেছি। কিন্তু আর পারছি না।”
বড় ভাই আল আমিন জানান, প্রথমে আকাশের ক্রিয়েটিনিন ছিল ১২ দশমিক ৭। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে একই ফলাফল পাওয়া যায়। বর্তমানে মাসে ১০টি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপনের অপারেশন, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
অসুস্থ আকাশ ক্লান্ত কণ্ঠে বলেন, “এভাবে বেঁচে থাকা আসলে বেঁচে থাকা নয়। আমাকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি। আমার চিকিৎসায় পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমি বাঁচতে চাই। দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ভাই ও যারা জাকাত দেন—তাদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।”
বর্তমানে অসহায় পরিবারটি সরকারি-বেসরকারি দাতা প্রতিষ্ঠান, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে।
সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগঃ 01700548892 – আকাশ(নগদ/বিকাশ)