ঢাবিতে ‘তরুণদের চোখে, কেমন কুড়িগ্রাম চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কুড়িগ্রাম স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকার(কসাড) আয়োজনে ‘ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেমিনার ও তরুণদের চোখে কেমন কুড়িগ্রাম চাই ‘ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার(৮ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের নানান দিক নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন বক্তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকার সাবেক সভাপতি মো ইমন মিয়া বলেন, আমরা এমন একটি কুড়িগ্রাম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দারিদ্র্য মানুষের জীবনসংগ্রাম তাদের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারবে না।

নদীমাতৃক এই জেলাকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে আমরা কাজ করতে চাই। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা যে নদীগুলোকে ঘিরে বছরের পর বছর মানুষের ভাগ্য নিয়ে হতাশার গল্প বলা হয়েছে, আমরা সেই ধারণা বদলাতে চাই। এই নদীগুলোকেই মানুষের সম্ভাবনা, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান শক্তিতে পরিণত করতে চাই।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার শুভ বলেন, কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ কুড়িগ্রামকে আধুনিক ও টেকসই অর্থনীতির একটি শক্তিশালী জেলায় রূপ দিতে চাই।

কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার শিক্ষা। তাই ঘরে ঘরে বিভ্রান্তি নয়, পৌঁছে দিতে চাই শিক্ষার আলো। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যা হবে মাদক ও জুয়ামুক্ত, যেখানে তরুণরা হতাশায় নয়, নিজেদের গড়ে তুলবে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।

আমাদের স্বপ্ন একটি মানবিক, শিক্ষিত, কর্মমুখর ও সম্ভাবনাময় কুড়িগ্রাম, যে কুড়িগ্রাম হবে আগামী প্রজন্মের গর্ব।

সংগঠনটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বলেন, কুড়িগ্রামের তরুণদের মাঝে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিহাস বলে একসময় চিলমারী বন্দর ছিল উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। মির্জা নাথানের বাহারিস্তান-ই-গায়বীতেও সেই গৌরবের উল্লেখ পাওয়া যায়। আজ সেই জৌলুশ হারিয়ে গেছে।

আমরা চাই, নতুন পরিকল্পনা, নদীপথের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের মাধ্যমে আবারও চিলমারীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হোক। আজকের পৃথিবীতে উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়, উন্নয়ন মানে মানবিকতা, সচেতনতা ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা। তাই আমাদের কুড়িগ্রাম হতে হবে একটি শিক্ষিত, মানবিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈষম্যহীন জনপদ।

তিনি আরও বলেন, কেএসডাব্লিউডিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তাকিয়ে আছি আপনাদের দিকে। আসুন, আমরা সবাই মিলে কুড়িগ্রামের সাক্ষরতা, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক জীবনমান পরিবর্তনের আন্দোলনে শামিল হই। কারণ কুড়িগ্রাম শুধু আমাদের জন্মভূমি নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন, আমাদের দায়িত্ব, আমাদের ভালোবাসা।

Share With