অবশেষে ১৭ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কুড়িগ্রামের সেই প্রেমিক কবির হোসেন।
রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারামুক্ত হন তিনি। তার মুক্তিকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্কাস আলী। এছাড়া কবির হোসেনের জ্যাঠা আবুল হোসেন জানান, শনিবার আদালত থেকে কবিরের জামিন মঞ্জুর হলে রোববার সকালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
জানা গেছে, ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন কবির হোসেন ও তার প্রেমিকা জুই। স্বপ্ন ছিল একসঙ্গে নতুন জীবন গড়ার। তবে সেই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রেমিকের মা। পরে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ৭ মে ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত আপোষ-মীমাংসার বৈঠকে তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না চাওয়া সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ভাইরাল হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ঘটনাটি প্রকাশিত হয়। প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল প্রেমের টানে কবির হোসেন তার প্রেমিকা জুইকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে তরুণীর মা আজিরণ বেগম ৩ মে রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
কবিরের জ্যাঠা আবুল হোসেন জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পূর্বের বিয়ে বহাল থাকবে এবং তারা একসঙ্গে বসবাস করতে পারবেন। এদিকে কবিরের মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণাও দিয়েছিলেন। জামিনে মুক্তির খবরে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রেমিক কবিরের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবা আক্তার জাহান চুমকি বলেন, জুইয়ের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত কবিরের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে বহাল থাকবে।
কুড়িগ্রাম বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “রৌমারীর এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ঢাকার কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের অনুরোধে আমি কবিরের পক্ষে আইনি সহায়তায় যুক্ত হই। জামিন শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর দায়রা জজ আদালত জুইয়ের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কবিরের জামিন মঞ্জুর করেন।