মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম, বাংলাদেশ। সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাপের কামড়ে মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।
২০২০ সালের ৬ মে সহিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাহজাহানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা, মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাত কমানো এবং সাপের কামড়ে অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু প্রতিরোধ করা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠন হিসেবে তাদের পথচলা কয়েক বছর হলেও, এর অনেক সদস্য ব্যক্তিগতভাবে ৮-১০ বছর, এমনকি কেউ কেউ ২০-২৫ বছর ধরেও বন্যপ্রাণী উদ্ধারে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে দেশের প্রায় সব বিভাগেই তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত।
সংগঠনটির সদস্যরা নিয়মিত সাপ উদ্ধার, অন্যান্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করে থাকেন। উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়, যাতে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সংগঠনটি ইতোমধ্যে তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জয় বাংলা ইউথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে, যা তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। সংগঠনের মোট উদ্ধারসংখ্যা ও উল্লেখযোগ্য অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যাবে।
সংগঠনটির সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সমন্বয়ে গঠিত। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষিত সদস্য যেমন রয়েছেন, তেমনি প্রশিক্ষণাধীন সদস্য এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরাও কাজ করছেন।
তবে এই কাজ মোটেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিষধর সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হয় সদস্যদের। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অর্থের অভাব এবং মানুষের মধ্যে সাপ নিয়ে ভুল ধারণা—যেমন সাপ দেখলেই মেরে ফেলা—তাদের কাজকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যদি সাপ লোকালয়ে প্রবেশ করে, তাহলে নিজে কিছু না করে দ্রুত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষিত রেসকিউয়ারদের সহায়তা নিতে হবে।
সংগঠনের এক সদস্য বলেন,
“আমরা প্রাণ বাঁচাতে কাজ করি—মানুষেরও, বন্যপ্রাণীরও। সচেতনতা বাড়লেই অনেক অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।”
সংগঠনটির সদস্যরা আশা করছেন, মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতা বাড়লে ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।