যে সময়ে এক বোতল খাবার পানির জন্য গুনতে হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা, যে সময়ে রক্তের সম্পর্কের সন্তান বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে সম্পত্তির ভাগ বোঝাতে ব্যস্ত—ঠিক সেই চরম স্বার্থপরতার পৃথিবীতেই জন্ম নেয় কিছু অন্যরকম গল্প। নিজের শরীরের তিল তিল করে জমানো লাল রক্ত অন্য একজন মুমূর্ষু মানুষের শরীরে বিলিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন একদল মানুষ। কোনো বৈষয়িক লাভ নেই, নেই কোনো রক্তের সম্পর্ক; স্রেফ মানবতা আর সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির টানেই চলছে এই নীরব বিপ্লব।
এই অদ্ভুত সুন্দর আর বিচিত্র পৃথিবীর বুকে কুড়িগ্রাম জেলার মানবসেবার এক অনন্য বাতিঘরের নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, স্বার্থের এই দুনিয়ায় এখনো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বেঁচে আছে। সম্প্রতি তিনি পার করেছেন রক্ত সংগ্রহের এক অনন্য মাইলফলক—১০০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ!
ক্ষুধার্তের অন্ন, মুমূর্ষুর রক্ত: যেখানেই সংকট, সেখানেই সাজ্জাদ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার এই তরুণ নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দিন-রাত এক করে ছুটে চলছেন মানুষের সেবায়।
- কার ঘরে আজ উনুন জ্বলেনি অনেক কে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে,
- কিংবা রক্তের অভাবে হাসপাতালের হিমশীতল বেডে শুয়ে কোন ছটফট করছে এক মুমূর্ষু প্রাণ—
সব খবর যেন সাজ্জাদের নখদর্পণে। ফোন এলেই গভীর রাতেও রক্তাদাতাকে সাথে নিয়ে সাজ্জাদ হাজির হয়ে যান হাসপাতালের করিডোরে। তার এই নিরলস প্রচেষ্টায় ১০০০টি পরিবার ফিরে পেয়েছে তাদের প্রিয়জনকে, বেঁচে উঠেছে হাজারো স্বপ্ন।
এই অভূতপূর্ব মাইলফলক ছোঁয়ার পর একান্ত সাক্ষাৎকারে আবেগপ্লুত কণ্ঠে সাজ্জাদ জানান
“আমি মানুষের মুখে একটুখানি হাসি দেখতে চাই। আল্লাহর কাছে আমার এটুকুই শুধু প্রার্থনা—তিনি আমাকে যেন ঠিক ততটুকু সামর্থ্য ও সহযোগিতা দেন, যতটুকু দিয়ে আমি আমার চারপাশের মানুষগুলোর আরও কাছাকাছি যেতে পারি, আরও আপন হতে পারি।”
১০০০ ব্যাগ রক্ত শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি ১০০০টি জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের গল্প। স্বার্থের এই বেড়াজালে বন্দি সমাজে সাজ্জাদের মতো তরুণেরা আমাদের শেখায়—মানুষ এখনো মানুষের জন্য, এবং মানবতাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ধর্ম।