কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভুন্দুরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান সংঘর্ষে তিন জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন—ভুন্দুরচর গ্রামের বাসিন্দা ফুলবাবু (৪৩), তার বড় ভাই বুলু মিয়া (৫২) এবং তাদের ভাতিজা নুরুল আমিন (৩০)। যদিও নিহতদের নাম এখনো পুলিশ বা নিরপেক্ষ কোনো সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ভুন্দুরচর এলাকার শাহ জামাল গং এবং রব্বানী গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও ঢেঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে তিন জন প্রাণ হারান এবং উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রব্বানী গংয়ের সদস্য আপেল মিয়া (৪৭) গুরুতর টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। অন্য আহতরাও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুন্দুরচর গ্রামটি জিঞ্জিরাম ও কালো নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “তিন জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”