ভূরুগামারীতে পুলিশের অভিযানে ৪ ভারতীয় গরু উদ্ধার, ৫ চোরাকারবারি আটক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গত কয়েক  দিনের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪টি ভারতীয় গরু উদ্ধার এবং ৫ জন চোরাকারবারিকে আটক করেছে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ড ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রীও জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর এলাকা থেকে এসব গরু ও চোরাকারবারিদের আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের আঘাত এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রমের কারণে পায়ের ক্ষুরে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা সীমান্ত পেরিয়ে আনার প্রমাণ বহন করে। 

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুধকুমার নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে ভারতীয় চোরাকারবারিরা গরু নদীতে ভাসিয়ে দেয়। বাংলাদেশ অংশে অবস্থানরত চোরাকারবারিরা গরুগুলো নৌকায় তুলে কালজানি ঘাটে এনে বিভিন্ন বাড়িতে রাখে। পরে সেগুলো স্থানীয় গরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভূরুঙ্গামারী হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। পুলিশের মতে, এ ধরনের চোরাচালানের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, কাজিয়ার চর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় চোরাকারবারিরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নে গরু, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অনেকের কাছেই সচল ভারতীয় সিম রয়েছে। এসব সিম ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন। অভিযানে ভারতীয় গরু, ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। 

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি, তিলাই ও পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা কঠিন হবে।

Share With