জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটু নিরাপদ আশ্রয় আর দু’মুঠো শান্তির প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু সেই প্রত্যাশাও আজ অধরাই। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাউনি, বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভেতরে পড়ে পানি, আর ছাউনির ফাঁক দিয়ে দেখা যায় খোলা আকাশ।
এমনই অসহায় ও মানবেতর জীবন কাটছে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাটতলা উচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৭৮ বছর বয়সী মো. গুলজার আলী ও তার প্রায় ৭০ বছর বয়সী স্ত্রীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। একসময় বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ঘরের ছাউনি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু টানা রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ে সেই পলিথিনও ছিঁড়ে গেছে। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, শুকনো জায়গা বলতে আর কিছুই থাকে না। জীবনের প্রতিটি দিনই তাদের কাটছে অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. গুলজার আলীর দুই ছেলে থাকলেও তারা বাবা-মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। এমনকি ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করছেন না। ফলে বার্ধক্যের এই সময়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বৃদ্ধ দম্পতি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তায় একটি টেকসই বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে এই অসহায় দম্পতির কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধ দম্পতির খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জীবনের শেষ বয়সে অন্তত একটি নিরাপদ ছাউনি আর মানবিক সহায়তা যেন তাদের ভাগ্যে জোটে—এমন প্রত্যাশাই সবার।