কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজের সময় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের ছবি সংবলিত একটি স্মারক ব্যানার সরিয়ে ‘উধাও’ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদের সহযোগিতায় স্থাপিত ব্যানারটি কোনো ধরনের পূর্ব তথ্য না দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রামের উদ্যোগে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই স্তম্ভসহ জেলার সকল শহীদের ছবি সংবলিত স্মারক ব্যানার স্থাপন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেও একটি স্মারক ব্যানার টাঙানো হয়।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কাজ চলাকালে সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন ব্যানার সরিয়ে পাশে রাখা হলেও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের ছবি সংবলিত স্মারক ব্যানারটি পরে আর সেখানে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।
তাদের অভিযোগ, ব্যানারটি সরানোর বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো প্রতিনিধিকে আগে থেকে জানানো হয়নি। প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিষয়টি জানালে তারা নিজেরাই ব্যানারটি অক্ষত অবস্থায় খুলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে পুনরায় স্থাপনের ব্যবস্থা করতেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বলেন, এটি সাধারণ কোনো ব্যানার ছিল না; এতে জেলার জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষিত ছিল। সড়ক সংস্কারের কারণে ব্যানার সরানোর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সংরক্ষণ করা যেত। কিন্তু কোনো ধরনের পূর্ব তথ্য ছাড়াই ব্যানারটি নিখোঁজ হওয়ায় এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ব্যানারটি কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে সেটি নিখোঁজ হলো, তা খুঁজে বের করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো চক্রান্তের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতি ও ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান থাকবে।
তবে ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।