কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণের স্লিপ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন কৃষক বাঁশ ফেলে ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ভূরুঙ্গামারী–সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএডিসি ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের আওতায় ২৩৫ বস্তা ডিএপি ও ৯৫ বস্তা টিএসপি সার বিতরণের জন্য স্লিপ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গনাইরকুটি গ্রামের মো. মালেক মিয়ার বাড়ির বাইরের আঙিনায় এ কার্যক্রম চলছিল।
সার পাওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক কৃষক সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্লিপ বিতরণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক ভূরুঙ্গামারী–সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার সময় সেখানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিব উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সার বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্রুত কৃষকদের মধ্যে সার দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। পরে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা নিয়ম মেনে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে হঠাৎ এমন ক্ষোভের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সার বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বরাদ্দের সার কীভাবে বিতরণ করা হচ্ছে, কারা স্লিপ পাচ্ছেন এবং প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয় নিয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে কৃষি বিভাগের নিয়মিত ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সার মজুতের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা ও কাঠের গোলাঘর থেকে মজুত সার উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এসব ঘটনার পর সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।