কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন শিশুটির মা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেলদাহ গ্রামের কালিরহাট পাঁচমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন শিশুটির মা তার মেয়েকে বাড়িতে রেখে প্রায় ৫০০ গজ দূরে নিজস্ব জমিতে ক্ষেত নিড়ানোর কাজে যান। শিশুটির বাবা মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কর্মরত থাকায় মা-মেয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এদিকে বাড়িতে একা থাকা শিশুটি কোনো এক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে কালিরহাট বাজারের দিকে যায়। সেখানে অভিযুক্ত মোঃ আশরাফুল ইসলাম শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তাকে মিষ্টি কিনে দেওয়ার কথা বলে তার পুরোনো বাড়ির দিকে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাকে বাড়ির দক্ষিণ দুয়ারী একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে শিশুটির পরনের জামা-কাপড় খুলে খাটের ওপর ফেলে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা। এ সময় শিশুটির গোঙানির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোছা. শাবানা বেগম (৩০), মো. ফরহাদ হোসেন (২০) ও মো. সুমন মিয়াসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তের ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। তারা দরজা খুলতে বললে অভিযুক্ত মোঃ আশরাফুল ইসলাম দরজা খুলে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটিকে খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে মায়ের কাছে শিশুটি ঘটনার বিস্তারিত জানায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটি তার মাকে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার জামা-কাপড় খুলে খাটের ওপর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মোছা. নাছিমা বেগম অভিযুক্ত মো. আশরাফুল ইসলামকে আসামি করে ভূরুঙ্গামারী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
শিশুটির মায়ের দাবি, পারিবারিকভাবে বিষয়টি আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে থানায় এজাহার করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এজাহার কৃত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫/০৯/২০২৬ ইং তারিখে ভূরুঙ্গামারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সালে সংশোধনীর ৯(৪)খ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত আসামি পলাতক রয়েছেন।
ওসি মোঃ আজিম উদ্দিন আরও জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।