উজানের ঢল ও কয়েক দিনের হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরো কিছুটা বাড়তে পারে। এতে তিস্তার তীরবর্তী কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৩ জুন) কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বেড়ে ২৪ দশমিক ৬৬ মিটারে পৌঁছেছে। যা বিপৎসীমার এক দশমিক ৩৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে ২৪ দশমিক ৪৯ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২১ দশমিক ৮২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৯ মিটারে পৌঁছেছে। যা বিপৎসীমার মাত্র ৩২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি কমছে। তবে জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে মরিচ ও পটল ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, “বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। তবে পাটক্ষেতসহ অন্যান্য সবজিক্ষেতে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনো জেলার সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।