সহকর্মীদের ঢাকায় লাঠিপেটার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।
জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় সকাল থেকে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বেসরকারি শিক্ষকদের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ কুড়িগ্রাম জেলা শাখা এই কর্মসূচির ডাক দেয়।
সোমবার সরজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের রিভার ভিউ হাই স্কুল, কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খলিলগগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, যাত্রাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ হাই স্কুল, এম এ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়, নীলারাম হাই স্কুল, বেলগাছা বরকতিয়া হাই স্কুলে সকাল ১০টা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেন।
এ সময় তারা বলেন, শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ। তারা আদর্শ ও নৈতিকতা সম্পন্ন জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ওপর নির্যাতন করা লজ্জাজনক ও অমানবিক। তারা শিক্ষক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ব্যাপারে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ বলেন, “শিক্ষক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে আমাদের সমস্ত শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ, সার্বিক ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হবে আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখব।”
জেলা শাখার অপর সমন্বয়ক মুকুল মিয়া বলেন, “অবিলম্বে শিক্ষক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরে যাব না।”
এ বিষয়ে যাত্রাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম রনি বলেন, “আমাদের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ও ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দিতে সরকারের গড়িমসি আর সহ্য করব না।”
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। আমরা চাই, তারা ক্লাস নেবেন, সরকার সময়মত যতটা পারে তাদের দাবি-দাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”