কুড়িগ্রামে ক্যান্সার আক্রান্ত একমাত্র পুত্র সন্তানের চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করতে না পেরে অসহায় এক মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। বুকফাটা কান্নায় সজল হয়ে উঠছে প্রতিবেশীদের চোখ-মুখ। ছেলের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দরকার ৮ লক্ষ টাকা। ভূমিহীন এই পরিবারটি কোথায় পাবে এত টাকা? কে বাড়াবে সহায়তার হাত? এই দুশ্চিন্তা আর নিজেদের অসহায় অবস্থায় বুকফাটা কান্না ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে তাদের! এখন একমাত্র ভরসা বিত্তবান ব্যক্তি বা সরকারি-বেসরকারি দাতা সংগঠনগুলোর আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ।
জানা গেছে, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারটি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে হাত পেতে ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান। সেখানে চোখে ক্যান্সারে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর চোখে অন্ধকার দেখছে পরিবারটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ৮ লক্ষ টাকা দরকার। নিজেদের কোনো অর্থ না থাকায় চরম এই সংকটময় মুহূর্তে দুশ্চিন্তা এবং সন্তান হারানোর আশঙ্কায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন অসহায় মা’টি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর ভাটিগ্রামের দিনমজুর পরিবারের সন্তান আলম বাদশা ও তার স্ত্রী রুপালী বেগম। সংসারে প্রথমে কন্যা সন্তান জন্মের পর মায়ের কোলজুড়ে আলো ছড়িয়ে ছেলে রেদওয়ান ইসলাম রাব্বীর আগমন ঘটে। এক মেয়ে ও এক ছেলে পেয়ে খুশি ছিল পরিবারটি। কিন্তু সাড়ে ৪ বছরের রাব্বী ছোটবেলা থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছিল। ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছিল তার চোখ দুটো। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে দেখিয়ে শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ক্যান্সারের সন্দেহ করেন। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. আনোয়ারুল করিমের তত্ত্বাবধানে রাব্বীর চোখে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ঢাকায় দুই সপ্তাহ অবস্থান করার পর অপারেশনের জন্য অর্থ না থাকায় শূন্য হাতে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন আলম বাদশা ও রুপালী বেগম। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তারা। কিন্তু কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ৬ শতক বাড়িভিটা ছাড়া বিক্রি করার মতো কোনো জমিজমা নেই তাদের। ফলে সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থা, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসী ভাইদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন প্রতিবেশীরা।
ভাটিগ্রামের মনছুর আলী, সাইবেনি, নুরুন্নাহার ও ফাতেমা বেগম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার খালপাড়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এখানকার পরিবারগুলো। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। তারপরও গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে ফুটফুটে ছেলেটির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসে। কিন্তু এখন যে অঙ্কের টাকা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন, তা এখানকার কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে অর্থের অভাবে অকালেই ছেলেটি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে পারে। এজন্য দেশ-বিদেশের দাতা ব্যক্তিদের সহায়তা প্রয়োজন। একমাত্র তারাই পারেন এই ফুটফুটে ছেলেটির পাশে দাঁড়াতে।
রাব্বীর দাদা ফয়জার আলী ও দাদী আছিয়া বেগম জানান, “হামার কলিজা ফাটি যাবার নাগছে। গরিব মানুষ, হামার কোনো পয়সা-কড়ি নাই! কি দিয়া বাঁচামো ছওয়াটাক!”রাব্বীর মা রুপালী বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। কোনো কথাই শেষ করতে পারছিলেন না তিনি।
তার পিতা আলম বাদশা জানান, ছেলেকে বাঁচাতে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা দরকার। এত টাকা কোথায় পাবো! অসহায় ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকেন তিনি। দীর্ঘশ্বাস চেপে বলেন, “আল্লাহর রহমত আর বিত্তবান মানুষের সহায়তাই পারে আমার সন্তানকে বাঁচাতে।”
বিষয়টি নিয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, “রেদওয়ানের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ছেলেটির চিকিৎসার জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক দ্রুত অর্থ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
যোগাযোগ: ০১৯৩০৬২৯১৯০ — আলম বাদশা (পিতা)