কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ হোটেল, বাসা-বাড়ি ও পরিবহনে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করেন। এ ছাড়া বহুদিন ধরে রান্নার জন্য শহরের বাসিন্দাদের প্রধান ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস।
সম্প্রতি দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বাড়তি দামেও গ্যাস পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এ ছাড়া সরকারি দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা হলেও ডিলার পয়েন্ট থেকে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশিতে।
কুড়িগ্রাম সদরের ত্রিমোহনী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, কয়েক দিন থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। না কিনেও উপায় নাই, বাড়িতে রান্নাবান্না করবে কী দিয়ে।
পৌরসভার বাসিন্দা রতন চন্দ্র বলেন, “শহরে বসবাস করি, বর্তমানে গ্যাস সংকটে পরিবারের রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে টাকা দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছি না।”
শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে জান্নাত হোটেলের মালিক মুন্না বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় তো খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। বর্তমানে ব্যবসা করতে একটু লোকসান গুণতে হয়।”
যমুনা এলপিজি গ্যাস ডিলার বদরুল আহসান মামুন বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রয় মূল্যের সঙ্গে পরিবহন খরচ ও স্বাভাবিক কিছু মুনাফা যোগ দিয়ে বিক্রি করছি। এতে আগের দামের তুলনায় সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”
এদিকে গ্যাস সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধে অভিযানে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদী বলেন, “প্রতিদিন আমরা অভিযান চলমান রেখেছি। যেসব ব্যবসায়ী বাজার সিন্ডিকেট তৈরি করে বর্তমান মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”