দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খাল খনন কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল। ওই সময় খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা সেচ কাজে সুবিধা পেতেন এবং খালে মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণ হতো, পাশাপাশি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আতাজী পলাশবাড়ি এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং পরে খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণও করেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাল খনন ও পরিচর্যা কর্মসূচি বন্ধ ছিল। আমাদের নির্বাচনী কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা কুড়িগ্রামেও খাল খনন কর্মসূচি উদ্ধোধন করছি।’
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৬৩ জেলায় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরে এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কৃষি, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রায় ৫১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলায় মোট প্রায় ৫৯.৯৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানো, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে সহায়তা মিলবে।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী সকালে লালমনিরহাট থেকে কুড়িগ্রামে পৌঁছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।