কুড়িগ্রামে স্থানীয় নারী কৃষক ও তাঁত উৎপাদন সেন্টার পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সোমবার বিকেলে সরকারি কাজের ফাঁকে তিনি সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় গ্রামে এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
এসময় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোক্তাদির খান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নারী কৃষকদের সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “বন্যা-প্রবণ এলাকায় টেকসই কৃষি ও জীবিকা গড়ে তুলতে নারী কৃষকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। প্রান্তিক নারীরা শুধু শ্রমিক নন, তারা যেন উদ্যোক্তা ও নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন—এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।” তিনি নারীদের আদা চাষ, সবজি উৎপাদন, ভার্মি কম্পোস্ট ও তাঁতকেন্দ্রিক আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রশংসা জানান।
নারীরা মাঠ পর্যায়ে বস্তায় আদা চাষ, বীজ বপন, বেড পদ্ধতিতে সবজিচাষ, মাছ চাষ এবং প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব সার উৎপাদনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। পরে উপদেষ্টা এএফএডি’র তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং প্রান্তিক নারীদের তৈরি কাপড়ের মান ও বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করেন।
এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন জানান, সংগঠনটি স্থানীয় নারী উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ, স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ও উৎপাদন, প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা এবং জীবিকা উন্নয়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বলেন, “কুড়িগ্রামের নারী কৃষকরা শুধু কৃষিতেই নয়, পরিবার ও সমাজেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তাদের কার্যক্রমকে টেকসই করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় জরুরি।”
সরকারি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরও বলেন, “নারী কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, বাজার সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসব সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।”