ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের, শুনানি ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত নোটিশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নোটিশে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে মেমোরেন্ডাম আকারে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে মূল কাগজপত্র এক সেট ও ছায়ালিপি ছয় সেট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রার্থীর লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
আপিল গ্রহণের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অঞ্চলভিত্তিক মোট ১০টি বুথে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের কাছে দায়ের করা আপিল আবেদনসমূহের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেইজমেন্ট-২)-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এসব শুনানি ফুল কমিশন গ্রহণ করবেন।
শুনানির সময়সূচি অনুযায়ী,
১০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১–৭০ নম্বর আপিল,
১১ জানুয়ারি ৭১–১৪০,
১২ জানুয়ারি ১৪১–২১০,
১৩ জানুয়ারি ২১১–২৮০,
১৪ জানুয়ারি ২৮১–৩৫০,
১৫ জানুয়ারি ৩৫১–৪২০,
১৬ জানুয়ারি ৪২১–৪৯০,
১৭ জানুয়ারি ৪৯১–৫৬০ এবং
১৮ জানুয়ারি ৫৬১ থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শনের পাশাপাশি রায়ের পিডিএফ কপি ও সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এবং পক্ষগুলোর ই-মেইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে রায় প্রকাশ করা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।
রায়ের অনুলিপি বিতরণের সূচি অনুযায়ী,
১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারির রায় ১২ জানুয়ারি,
১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং
১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি প্রদান করা হবে।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে হবে।