চিলমারীতে টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে হতদরিদ্রদের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে অনেক জায়গায় শুধু কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হয়েছে। কোথাও আবার কাজ শুরু হলেও বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে উপজেলা জনস্বাস্থ্য দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী উত্তম কুমার সিংহের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, তিনি মূলত রংপুরে অবস্থান করেন এবং সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন অফিসে আসেন।উপজেলা জনস্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ২২৯টি করে মোট ৬ ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৭৪টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা করে, মোট ব্যয় প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের কাজ পেয়েছেন কুড়িগ্রামের আমিনুল ইসলাম ও বগুড়ার সিরাজসহ কয়েকজন ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে ১০ হাজার টাকারও কম খরচ করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোদালধোয়ারপাড় গ্রামের জয়নাল মিয়ার বাড়ির ল্যাট্রিনে ইটের রাবিশ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।

জয়নালের স্ত্রী মেরেজা বেগম বলেন, ইটের রাবিশ দিয়ে ঢালাই করেছে, মান খুবই খারাপ। একই গ্রামের গোলজার মিয়ার স্ত্রী মরশেদা বেগম জানান, ল্যাট্রিন বরাদ্দ পেতে ফিরোজ মিয়াকে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, তবুও কাজের মান একেবারেই নিম্নমানের।ভরটপাড়া (নয়াগ্রাম) গ্রামের গোলজার আলীর স্ত্রী রওশন আরা বেগম অভিযোগ করেন, ল্যাট্রিনের জন্য আনা ১০টি রিংয়ের মধ্যে ৬টি ধরতেই ভেঙে যায়। পরে তিনি নিজ খরচে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে নতুন রিং কিনে বসান।

একই এলাকার শাহ আলম মিয়াও জানান, তার ল্যাট্রিনের ৩টি রিং ভেঙে যাওয়ায় তাকে নিজ উদ্যোগে নতুন রিং কিনতে হয়েছে। অন্য অনেক এলাকায়ও ল্যাট্রিনে ব্যবহৃত খুঁটি, কাঠ, টিন, রিং-স্ল্যাবসহ সব উপকরণই নিম্নমানের হওয়ায় হস্তান্তরের আগেই ল্যাট্রিনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি কমিউনিটি বেজ গভীর নলকূপ (৪০ পরিবারভিত্তিক), ২টি লার্জ স্কিম (৩৫০-৪০০ পরিবার), ৪২টি নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প (১০ পরিবারভিত্তিক), এবং ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সুবিধাভোগীরা।

ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম মাস্টার দাবি করেন, তিনি চিলমারীর ৪টি ইউনিয়নে ৯১৬টি ল্যাট্রিন নির্মাণের কাজ পেয়েছেন। তবে তিনি শুধু টিন, প্যান ও ওয়াই-জংশন সরবরাহ করেন, স্থানীয় উদ্যোক্তারা বাকি কাজ করেন। তার মতে, খারাপ কাজের কোনো সুযোগ নেই। অপর ঠিকাদার সিরাজ জানান, তিনি মাত্র ২২৯টি ল্যাট্রিনের কাজ পেয়েছেন এবং যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী উত্তম কুমার সিংহ জানান, ৬ ইউনিয়নে ২২৯টি করে মোট ১ হাজার ৩৭৪টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে ৫০০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাজের বরাদ্দ জেলা অফিস থেকে হয়, তাই এ বিষয়ে আমার বেশি জানাশোনা নেই। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন

Share With