একসময় ছিলেন কর্মচঞ্চল মাছ ব্যবসায়ী। নিজের পরিশ্রমে সংসার চালাতেন, স্বপ্ন দেখতেন স্বাভাবিক জীবনের। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে তাঁর কর্মক্ষমতা। কেটে গেছে দীর্ঘ আট বছর। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটছে তাঁর। অর্থের অভাবে থেমে আছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোপালের খামার (বকুলতলা) এলাকার বাসিন্দা আব্দুস শাফী মিয়া (৫৫)। প্রায় আট বছর আগে মাছের ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
এরপর থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবন। একসময় যে মানুষটি ব্যবসা করে পরিবারের খরচ চালাতেন, সেই আব্দুস শাফী এখন নিজেই পরিবারের বোঝা হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বল ভিটেমাটিও। শেষ পর্যন্ত অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে কোনোরকমে দিন কাটছে তাঁর।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত থেরাপি নেওয়ার কথা থাকলেও অর্থের অভাবে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিনের ওষুধ কিনতে প্রায় ২০০ টাকা প্রয়োজন হলেও অনেক সময় সেটুকুও জোগাড় করতে পারছেন না তিনি।
কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আব্দুস শাফী। তিনি বলেন, “আমার চিকিৎসার পেছনে টাকা-পয়সা, ভিটেমাটি—সব শেষ করে ফেলেছি। এখন আর চিকিৎসা করার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই। ঠিকমতো ওষুধও খেতে পারি না। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমি আবার আমার চিকিৎসাটা করাতে পারব।”
স্থানীয়রা জানান, আব্দুস শাফী ছিলেন পরিশ্রমী ও ভালো মানুষ। মাছের ব্যবসা করে তিনি সংসার চালাতেন। অসুস্থ হওয়ার পর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটিও চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও বিত্তবানরা আব্দুস শাফীর পাশে দাঁড়ালে তাঁর চিকিৎসা আবার শুরু করা সম্ভব হবে। দীর্ঘ আট বছর ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা এই মানুষটি হয়তো একটু সহযোগিতাতেই ফিরে পেতে পারেন স্বাভাবিক জীবনের আশার আলো।
আব্দুস শাফীকে সহযোগিতা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ 01795596449 (নগদ)