দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার একটি আংশিক শৈত্যপ্রবাহ ধেয়ে আসছে। ‘কনকন’ নামের এ শৈত্যপ্রবাহটি আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি সময়টিকে শৈত্যপ্রবাহের সর্বাধিক সক্রিয় পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, এটি একটি আংশিক শৈত্যপ্রবাহ হওয়ায় দেশের সব ৬৪ জেলায় একযোগে এর প্রভাব পড়বে না। তবে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ওপর শীতের প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। মূল সক্রিয় সময়ে এসব এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদী অববাহিকায় রাত ও ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট বাড়তে পারে।
এদিকে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। এসব এলাকায় তুলনামূলকভাবে আগেভাগেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, রাঙ্গামাটি ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকলেও শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
আবহাওয়া বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, শৈত্যপ্রবাহ শুরুর প্রথম দুই থেকে তিন দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার প্রভাব বেশি থাকতে পারে। পরে ধীরে ধীরে কুয়াশা কমে গিয়ে দিনের বেলায় অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি রোদ দেখা যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
ঢাকা মহানগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ সক্রিয় না হলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে, যা শৈত্যপ্রবাহের সংজ্ঞায় না পড়লেও আবহাওয়া থাকবে বেশ শীতল।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাকৃতিক কারণে শৈত্যপ্রবাহের শক্তি ও সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। এ কারণে সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে দেশের সরকারি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘শৈত্যপ্রবাহ কনকন’ নামকরণ করেছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (BWOT)। তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এক্সট্রিম ওয়েদার ইনডেক্স, ইসিএমডব্লিউএফ ও মেটিওলজিক্স।