বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে দুধকুমার, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইতোমধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
এছাড়াও ১০টি পয়েন্টে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন, তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক।
অন্যদিকে রোববার রাত থেকে সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় দুধকুমারের ভাঙনের কবলে পড়ে অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শত শত পরিবার। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে অন্যান্য ভাঙনকবলিত পয়েন্টেও। তবে এ অবস্থায়ও ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ভাঙন রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি তারা। এতে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকে।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার লেবু মিয়া বলেন, “একদিনে দুধকুমারের ভাঙনে গ্রামের ৫০টি পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতবাড়ি। এখনো হুমকিতে অসংখ্য পরিবার। এখানে দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতি হবে এই এলাকার।”
সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “একদিনে পানি বৃদ্ধিতে আমার দুই বিঘা জমির আমন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। যদি পানি দ্রুত নেমে যায়, তাহলে ক্ষতি কম হবে। কিন্তু ৫–৬ দিন থাকলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব আমি।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, “উজানের ঢলে গতরাত থেকে দুধকুমার ও ধরলার বেশ কিছু পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও আগামী আরও দুই দিন এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।”