নাগেশ্বরীতে এসআই নির্মল চন্দ্র রায়ের মৃত্যুতে সমালোচনার ঝড়

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সাম্প্রতিক এক ঘটনার জেরে এসআই নির্মল চন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত ২টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার দাঈ ফিরদৌস হাসানের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ফিরদৌস হাসান অভিযোগ করেন, অভিযানে ইসকন সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী ও হিন্দুত্ববাদী পুলিশের হামলা ও অশালীন আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। ঘটনার পর আতাউর রহমান বিক্রমপুরী নামের একজন আলেম তাহাজ্জুদ নামাজের পর ফেসবুক লাইভে এসে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া ও অভিশাপ করেন।

এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে নাগেশ্বরী থানার এসআই নির্মল চন্দ্র রায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার পর দাঈ ফিরদৌস হাসান তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে লেখেন—
“দাঈ’র মোকাবেলায় অমুসলিমের দুই অবস্থা: হয়তো হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, নয়তো ধ্বংস হবে। যেই হিন্দু পুলিশ অফিসার আমার ঘরের দরজায় লাথি দিয়েছিলো, সে হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছে। আমার মালিক আল্লাহ আমাকে পরিত্যাগ করেন নাই, আলহামদুলিল্লাহ।”

এছাড়া তিনি পোস্টে এসআই নির্মল চন্দ্র রায়ের একটি ছবিও সংযুক্ত করেন এবং দাবি করেন, তিনিই তার বাসায় হামলা পরিচালনা করেছিলেন।

অন্যদিকে, সাধারণ জনগণের মধ্যে গুঞ্জন— আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর অভিশাপ আল্লাহ কবুল করেছেন বলেই এই মৃত্যু ঘটেছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দাবি দায়িত্বহীন ও উত্তেজনাকর। একটি স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়া সমাজে বিভাজন সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।

Share With