নাব্যতা সংকটে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠছে শতশত ডুবোচর। ফলে চিলমারী থেকে রাজিবপুর, কর্তিমারীসহ বিভিন্ন নৌরুট গত তিন মাস ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ইজারাদার ও নৌকা চালকরা লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে কৃত্রিম তেল সংকটের কারণে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে নৌকা চালকদের। এতে নৌপরিবহন খাতে বাড়ছে লোকসান।
ইজারাদাররা বলছেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী চাপও আগের তুলনায় কম হতে পারে। চিলমারী-হরিপুর সেতু চালু হওয়াকেও এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
ইজারাদারদের দাবি, গত তিন মাসে বন্ধ থাকা রুটগুলোর কারণে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মতো লোকসান হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

তথ্য অনুযায়ী, চিলমারী উপজেলা থেকে রাজিবপুর ও কর্তিমারী রুটে প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় হতো। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব রুট বন্ধ থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ছোট ছোট বিভিন্ন ঘাটেও নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিলমারী ঘাট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় ইজারা নেন আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া রৌমারী ঘাট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং রাজিবপুর ঘাট ৭০ লাখ টাকায় ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ।
নৌকা চালক রফিকুল আলী বলেন, নদীতে পানি কম, তার ওপর তেলের দাম বেশি। অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে। অনেক চ্যানেলে নৌকা চলতে পারছে না, তাই আয়ও হচ্ছে না। প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
রাজিবপুরের বাসিন্দা মিতু বলেন, “আমার বাবার বাড়ি রাজিবপুর আর শ্বশুরবাড়ি উলিপুর। আগে রাজিবপুর থেকে নৌকায় চিলমারী ঘাট হয়ে যাতায়াত করতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে রাজিবপুর ঘাট বন্ধ থাকায় এখন রৌমারী গিয়ে নৌকায় উঠতে হচ্ছে। এতে খরচও বাড়ছে, ভোগান্তিও বাড়ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর আমিন বলেন, নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
রাজিবপুর ঘাটের ইজারাদার মো. সাব্বীর হোসেন রাজীব বলেন, আগে দিনে চারবার নৌকা যাতায়াত করত, এখন একবারও করছে না। প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে যাত্রী পারাপার বন্ধ। যে টাকা দিয়ে ঘাট নিয়েছি, সেটাই উঠবে কিনা সন্দেহ।
চিলমারী ঘাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারকে নির্ধারিত ইজারা মূল্য পরিশোধ করে ঘাট নিয়েছি। কিন্তু নৌরুটের চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে কয়েকটি নৌরুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে চিলমারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তবে এখানে যে পরিমাণ ড্রেজিং প্রয়োজন, তা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। কয়েক বছর ধরে এমন পরিস্থিতি হয়নি। এবারের পরিস্থিতি মূলত প্রাকৃতিক কারণেই সৃষ্টি হয়েছে।