বাঁশের সাঁকোই ভরসা আট গ্রামের মানুষের

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নীলকমল নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন আট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের বালাটারী, চন্দ্রখানা, জেলেপাড়া, কুমারপাড়া, বামনটারী, আবাসন, বৈরাগিপাড়া ও দাশিয়ারছড়ার মানুষ এ সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়রা জানান, তিন বছর আগে এখানে কাঠের সেতুটি ভেঙে গেলে গ্রামের লোকজন নিজেরাই বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেন। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণও হারিয়েছেন।

বালাটারী চন্দ্রখানা গ্রামের এহসান আলী জানান, তার ছেলে আতিকুর রহমান এ সাঁকো থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নিজেও একাধিকবার আহত হয়েছেন। তবুও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো স্থায়ী সেতু মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় কলেজছাত্র ফারুক হোসেন জানান, এক সপ্তাহ আগে সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছেন তিনি। তার মোবাইল ফোনও ভেঙে গেছে। আগে কাঠের সেতু থাকায় নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষক আক্তার আলী জানান, গ্রামের মানুষ মিলে প্রতিবছর বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেন। তিনি নিজেই বছরে অন্তত ৫০-৬০টি বাঁশ দেন, অন্যরা শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, নীলকমল নদীর ওপর ১২০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনুমা তারান্নুম জানান, আপাতত গ্রামীণ যাতায়াত সহজ করতে নতুন বাঁশ-কাঠের সাঁকো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) পাঠানো হয়েছে।

Share With