কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা দুই কৃষককে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুন হাট বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার নিতাই চন্দ্র সাহার বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবসায়ীমো.আসাদুজ্জামানকে এ জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন হাট বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়টি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক সাংবাদিক জানতে পারেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে এ বিষয়ে উৎকোচ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ী উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাংবাদিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম তারেক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার। এছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে সার বিক্রির বিষয়টি যাচাই করে উপজেলা প্রশাসন জানতে পারে, দুইজন কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত নেওয়া টাকা দুই কৃষককে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ভবিষ্যতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করার নির্দেশ দেন।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ব্যবসায়ী মো. আসাদুজ্জামান (পিতা: আব্দুল আওয়াল)কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম আকন্দ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ সরকার, উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।