কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ষোলো বছরের এক কিশোরীর ঘরে প্রবাসী আকরামুল হক রানু (৬০) আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পশ্চিম শিংঝাড় গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, রানু বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কিশোরীর ঘরে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে। কিশোরী চলতি বছর বাউশমারী ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিয়েছে।
ঘটনার পর সারারাত মেয়েটি বিয়ের দাবিতে অনড় থাকলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় সাড়ে ৩ লাখ টাকায় রফাদফা করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই টাকার বড় অংশ স্থানীয় নেতাকর্মী ও মাতব্বররা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। কিশোরীর পরিবার হাতে পেয়েছে মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই মেহেদী হাসান জানান,
“আমরা এক লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছি। বাকিটা মেম্বার, চেয়ারম্যান, যুবদল নেতা ও স্থানীয় অনেকেই ভাগ করে নিয়েছে।”
কিশোরীর মা বলেন, “রাতভর তারা (নেতাকর্মীরা) বাড়িতে ছিল। এজন্যই টাকা তারা ভাগ করে নিয়েছে।”
এ অভিযোগ স্বীকারও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন,
“মেয়েটার সঙ্গে লোকটার দুই বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। আটক হওয়ার পর সারারাত আমি উপস্থিত ছিলাম। শেষমেষ সাবেক চেয়ারম্যান বাদল ভাইসহ সবাই মিলে ফয়সালা করেছি। মেয়ের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা বাদল তালুকদার বলেন,
“লোকটির দুই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। কিভাবে বিয়ে হয়? তাই টাকা দিয়ে মীমাংসা হয়েছে। দুই লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকিটা উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মধ্যে ভাগ হয়েছে।”
এদিকে, অভিযুক্ত প্রবাসী আকরামুল হক রানু জানান, তিনি ‘ট্র্যাপে পড়েছেন’। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুবাইপ্রবাসী রানু মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই সীমান্ত এলাকায় মাদক সেবনের জন্য আসেন। এর আগেও তিনি দুই বিয়ে করেছেন এবং এক স্ত্রীর করা মামলাও এখনো চলমান।
রায়গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ মন্ডল বলেন,
“এটি অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা। আমি ঢাকায় থাকায় পরবর্তী বিষয় জানি না।”
অন্যদিকে জয়মনিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,
“সাবেক চেয়ারম্যান ও চারজন ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে সমঝোতা করেছে। সাড়ে তিন লাখ টাকার কথা শুনেছি, তবে কাকে কত দেয়া হয়েছে জানি না।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন— নাবালিকা একটি কিশোরীর জীবনের গুরুতর ঘটনায় টাকা দিয়ে রফাদফা করলেই কি ন্যায়বিচার হয়?