১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ আজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম আর আবেগের ঠিকানা। প্রায় ২৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই কলেজে অধ্যয়ন করছে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী।
কলেজটিতে রয়েছে চারটি আবাসিক হোস্টেল—দুটি ছেলেদের ও দুটি মেয়েদের। ছেলেদের আবাসিক হল বিজয় ২৪ হল ও ওয়াহাব ছাত্রাবাসে বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী পরিবার ছেড়ে থেকে পড়াশোনা করছে।
পবিত্র মাহে রমজান এলেই এসব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে নেমে আসে এক ধরনের শূন্যতা। ইফতারের সময় পরিবার, মা-বাবা, ভাই-বোনদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। ঠিক সেই আবেগের জায়গাটিতে হাত রেখেছে কলেজ প্রশাসন।
রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন কলেজ মসজিদে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইফতারের আগে মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিজয় ২৪ হল ও ওয়াহাব ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন যেন এক নীরব গল্প বলে—দূরে থেকেও তারা একে অন্যের পরিবার হয়ে উঠছে। একসাথে আজান শোনা, একসাথে দোয়া করা আর একসাথে ইফতার করার সেই মুহূর্ত আবাসিক জীবনের কষ্ট অনেকটাই ভুলিয়ে দিচ্ছে।
আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফ আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,“পড়াশোনার জন্য আমাদের পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। রমজানে ইফতারের সময়টা সবচেয়ে কষ্টের। কিন্তু কলেজ প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমাকে মনে করিয়ে দেয়—আমরা এখানে একা নই।
আজ মসজিদে ইফতার করতে বসে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বাড়ির কথা ভুলে গেছি। এই ভালোবাসার জন্য আমি কলেজ প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ।”কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউল হক খান চৌধুরী বলেন,“আমাদের ১৮ হাজার শিক্ষার্থীই আমাদের সন্তান। তারা যেন কখনো নিজেকে একা মনে না করে—এই চিন্তাটাই আমাদের।
রমজানে তাদের পাশে থাকতে পারা, তাদের মুখে হাসি দেখতে পারা একজন শিক্ষক ও অধ্যক্ষ হিসেবে আমার জন্য পরম তৃপ্তির।”রমজানের পবিত্রতায় এমন উদ্যোগ কেবল ইফতারের আয়োজন নয়—এটি এক ধরনের আশ্রয়, এক ধরনের পরিবার হয়ে ওঠার গল্প। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রশাসনের এই মানবিক পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।